
এই ষোড়শ অধ্যায়ে স্কন্দ নারদের দিব্য দর্শনময় গোলোকযাত্রা বর্ণনা করেন। মেরু পর্বত থেকে নারদ শ্বেতদ্বীপ ও মুক্ত ভক্তদের (শ্বেতমুক্ত) দর্শন করেন। বাসুদেবের প্রতি মন একাগ্র করতেই তিনি মুহূর্তে দিব্য অঞ্চলে উপনীত হন; সেখানে ভক্তেরা তাঁর একান্তিক ভক্তি চিনে কৃষ্ণকে প্রত্যক্ষ দেখার আকাঙ্ক্ষার কথা জিজ্ঞাসা ও সম্মান করেন। কৃষ্ণের অন্তঃপ্রেরণায় চালিত এক শ্বেতমুক্ত নারদকে আকাশীয় পথে নিয়ে যান—দেবলোকসমূহ অতিক্রম করে, সপ্তর্ষি ও ধ্রুবের ঊর্ধ্বে, মহর্লোক-জনলোক-তপোলোক পার হয়ে, ব্রহ্মলোক এবং জগতের ‘আট আবরণ’ (তত্ত্বাবরণ) ছাড়িয়ে। এরপর তিনি এক অপূর্ব তেজোময় গোলোকে পৌঁছান—বিরজা নদী, রত্নখচিত তট, কল্পবৃক্ষ, বহু দ্বারবিশিষ্ট দুর্গসদৃশ ঐশ্বর্য সেখানে বিরাজমান। তারপর সুগন্ধি কুঞ্জ, দিব্য পশু, রাসমণ্ডপ, অলংকারভূষিতা অসংখ্য গোপী এবং রাধা-কৃষ্ণের প্রিয় ক্রীড়াভূমি দিব্য বৃন্দাবনের বর্ণনা বিস্তৃত হয়। শেষে নারদ বহু স্তরের দ্বার ও নামধারী দ্বারপালসহ কৃষ্ণের আশ্চর্য মন্দির-প্রাঙ্গণে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেন এবং অন্তরে অপরিমেয় জ্যোতি দর্শন করেন—যা প্রত্যক্ষ দর্শনের নৈকট্য জানায়, তবে ভক্তিযোগ্যতা ও ভগবৎ-কৃপাপ্রদত্ত পথনির্দেশের গুরুত্বই অধ্যায়ের মূল সুর।
No shlokas available for this adhyaya yet.